প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দোহা/লন্ডন: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কামানের গোলার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। শুক্রবার (৬ মার্চ, ২০২৬) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের পর আন্তর্জাতিক বাজারে এটিই জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় লাফ। কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধের হুঁশিয়ারি এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ ধসের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী এবং কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি এক সাক্ষাৎকারে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রে সামরিক হামলার কারণে তারা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, "এই সংঘাত চলতে থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে, যা বিশ্ব জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে থমকে দেবে।"
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে এই রুটটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে চীন, ভারত ও জাপানের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো চরম সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানি বিশ্লেষক অম্রিতা সেনের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ এবার প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে ইরানের তেল জাতীয়করণ আন্দোলন (মোসাদ্দেক আমল) থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি রাজনীতির শুরু। সেই সময় যেমন তেলের দখল নিয়ে পশ্চিমা শক্তিগুলো মরিয়া ছিল, ২০২৬ সালেও তার পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৯৫০-এর দশকে যখন ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধিকারের লড়াই শুরু করে, তখন থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এ দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালের বৈশ্বিক তেল সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে বড় বাধা হয়েছিল। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫-২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আবারও এক কঠিন পরীক্ষার মুখে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের পরিবহন খাত, কৃষি সেচ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।
রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে ‘বাস্তব ঝুঁকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং অফজেম জানিয়েছে, দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ইতিমধ্যে ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, তেলের দাম তিন অঙ্কে পৌঁছানো এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
১৯৫০ সালের স্নায়ুযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এই সরাসরি সংঘাত—ইতিহাস প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা মানেই বিশ্ব অর্থনীতির স্থবিরতা। যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে বিশ্ব সামষ্টিক অর্থনীতি এমন এক গর্তে পড়বে যেখান থেকে উঠে আসা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার হবে।
সূত্র: ১. কাতার এনার্জি অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ইন্টারভিউ (মার্চ ২০২৬)।
২. রাইস্ট্যাড এনার্জি ও এনার্জি আসপেক্টস বাজার বিশ্লেষণ প্রতিবেদন।
৩. জাতীয় আর্কাইভস: বিশ্ব জ্বালানি সংকট ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস (১৯৫০-২০২৪)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |